খুঁজুন
রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদকে বাধ্য করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে ঐকমত্য কমিশন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫, ১:২৬ অপরাহ্ণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদকে বাধ্য করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে ঐকমত্য কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি: জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত সুপারিশগুলো টেকসইভাবে বাস্তবায়নের জন্য আগামী জাতীয় সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদ ২৭০ দিন (৯ মাস) সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে এবং একইসঙ্গে নিয়মিত সংসদীয় কার্যক্রমও পরিচালনা করবে।

এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদের বাস্তবায়নে সংসদকে বাধ্য করার উপায় খুঁজছে কমিশন। এ কারণেই গত দুই দিন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করলেও চূড়ান্ত সুপারিশমালা অনুমোদন করতে পারেনি তারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিশনের কার্যালয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিরতি দিয়ে টানা ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই বৈঠক। কমিশন আশা করছে, আগামী শনিবার তৃতীয় দিনের বৈঠকে সুপারিশ চূড়ান্ত করে সেদিনই বা পরদিন সরকারের কাছে জমা দেওয়া সম্ভব হবে।

কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আজকের আলোচনায় আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি। আশা করছি, দ্রুতই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দিতে পারব।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য জানান, সনদ বাস্তবায়নের আদেশের নাম ও ভিত্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। আলোচনায় বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানই হবে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ক্ষমতার উৎস। সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’। এর অধীনে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

কমিশনের সূত্রে জানা যায়, আগামী সংসদকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সনদ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা আরোপের বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদ ৯ মাসের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। এ সময় সংসদ নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করবে।

কমিশনের এক সদস্য বলেন, আজকের বৈঠকেও আমরা এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি, সংসদকে কীভাবে সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করা যাবে। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আমরা দুটি মতামত পেয়েছি- একটি মতে, নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন না হলে সংসদ বিলুপ্ত হবে, অন্য মত অনুযায়ী, সময়সীমার মধ্যে সংসদ বাস্তবায়ন না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত বলে গণ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, এই দুটি প্রস্তাব নিয়েই এখনও আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞ কমিটি খসড়া পুনর্বিবেচনা করবে এবং পরে চূড়ান্ত মত নির্ধারণ করা হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, যদি পরবর্তী সংসদ নির্ধারিত সময়ের (২৭০ দিন) মধ্যে বাস্তবায়ন সম্পন্ন না করে, তাহলে সনদের কী হবে- সেটিই এখন মূল আলোচনার বিষয়। কেউ বলছেন সংসদ বিলুপ্ত হওয়া উচিত, আবার কেউ মনে করছেন তা বাস্তবসম্মত নয়। অনেকেই মত দিয়েছেন, সংসদ ব্যর্থ হলে সনদের সংস্কারসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানের অংশ হয়ে যাবে। তবে এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্র জানিয়েছে, জুলাই সনদের আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) নিয়ে আপাতত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আদেশে কমিশনের প্রস্তাবগুলোই থাকবে, তবে ভিন্নমতের উল্লেখ থাকবে না। গণভোটে দুটি প্রশ্ন থাকবে- আদেশ অনুমোদন করবেন কি না এবং প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়ন চান কি না।

এক বিশেষজ্ঞ বলেন, বেশিরভাগ সদস্যই ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে’ নোট অব ডিসেন্ট রাখার পক্ষে নন। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ঐকমত্য কমিশনের সূত্রে আরও জানা গেছে, গণভোটের সময় নির্ধারণ রাজনৈতিক বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আদেশে একটি একক প্রশ্ন থাকবে- ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এতে সন্নিবেশিত প্রস্তাবগুলো সমর্থন করেন?’ জনগণ সেখানে হ্যাঁ/না ভোট দেবে।

কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এখন আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করছি সদন বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে। তবে, সেখানে বেশ কিছু মতামত এসেছে। কিন্তু কোনোটাই চূড়ান্ত হয়নি।

কমিশনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ খুব শিগগিরই সরকারের কাছে জমা দেওয়া সম্ভব হবে।

বৈঠকে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন, সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন। এ ছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

কমিশনের পক্ষে অংশ নেন সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।

দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি

১৬ ডিসেম্বর থেকে অনিবন্ধিত মোবাইল বন্ধে কঠোর সরকার

M Lutfar Rahman
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
   
১৬ ডিসেম্বর থেকে অনিবন্ধিত মোবাইল বন্ধে কঠোর সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি: সরকার ১৬ ডিসেম্বর থেকে মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন প্রক্রিয়া (এনইআইআর) চালু করতে যাচ্ছে। যা টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা জোরদার ও অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করবে। এই নতুন উদ্যোগের ফলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া কিংবা অনুমোদনবিহীন আমদানি করা মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

নতুন ব্যবস্থার আগাম ঘোষণা পাওয়ার পর অনিবন্ধিত মোবাইল ডিভাইসের দাম বাড়ার আশঙ্কায় বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। তবে সাধারণ মানুষ বিশেষত ছাত্র-যুবকরা অভিযোগ করছেন, সরকারি শুল্ক ও ভ্যাটের কারণে অফিসিয়াল ফোনের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় তারা পছন্দের ফোন কেনার সুযোগ পাচ্ছেন না। একটি ২০ হাজার টাকার ফোনে ৫৭ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়ে এর দাম ৫০ হাজার টাকারও বেশি হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা অনিবন্ধিত ফোন আমদানিতে ৫৭ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সভাপতি মো. আসলাম বলেন, সরকার যদি আলোচনায় না আসে, তাহলে ব্যবসায়ীরা রাজপথে নামার পথে বাধ্য হবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব জানান, দেশে ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল প্রতারণায় অবৈধ স্মার্টফোন ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বন্ধ করতে সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মোবাইল ফোন চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে অবৈধ ডিভাইসকেন্দ্রিক অপরাধ দমন, সুলভ দামে মোবাইল সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এই লক্ষ্য নিয়েই ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর কার্যকর করার সিদ্ধান্ত সরকার নেয়।

আইসিটি বিভাগ জানিয়েছে, এনইআইআর চালুর আগের দিন পর্যন্ত নেটওয়ার্কে থাকা সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পরবর্তীতে বিদেশ থেকে ফোন আনার ক্ষেত্রে অনলাইনে নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।

দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি

বিএনপি ধর্মের নামে ট্যাবলেট বিক্রি করতে চায় না: সালাহউদ্দিন আহমদ

M Lutfar Rahman
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
   
বিএনপি ধর্মের নামে ট্যাবলেট বিক্রি করতে চায় না: সালাহউদ্দিন আহমদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি: বিএনপি মানুষের ভোট চায়, ধর্মের নামে ট্যাবলেট বিক্রি করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা বিনা কষ্টে জান্নাতে নিয়ে যেতে চাচ্ছে, তারা বাসস্টেশন কোন জায়গায় তা জেনে নিয়েন। ইহকালে কীভাবে চলবে তার কোনো বক্তব্য তাদের কাছে নাই, শুধু তড়তড়িয়ে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চাইছে।

তিনি বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের কাছে ভোট চায়, জনগণের কাছে ধর্মের নামে ট্যাবলেট বিক্রি করতে চায় না। বিএনপি ভোট চায়, তার বিনিময়ে জনগণের যে চাওয়াগুলো আছে তা পূরণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেহেশতের কথা, জান্নাতের কথা বলছেন কোনো কোনো রাজনৈতিক দল। এমনটি তারা বলতেই পারে, ভোটের জন্য রাজনীতির জন্য কেউ কেউ এমনসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন। জামায়াতে ইসলাম মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তারা ধর্মের নামে ব্যবসা করছে।

দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি

আগামী বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি

M Lutfar Rahman
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
   
আগামী বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আগামী বুধবার (১০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনার সূত্রে জানা গেছে, আগামী বুধবার সিইসির ভাষণ রেকর্ড করতে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

একইদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসি ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সাক্ষাৎ করতে দেখা যায়।

আগামী বুধবার দুপুরে ১২টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাথে দেখা করবেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিননের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।

ইসি সূত্রে জানা যাচ্ছে, বুধবারই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

রেওয়াজ আছে, যেদিনই বক্তব্য রেকর্ড হয়, সেদিনই সাধারণত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। আর প্রতিবারই বিটিভি ও বেতারে জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ভোটের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি