খুঁজুন
রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

বিনা খরচে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
বিনা খরচে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি: প্রতিবারের ন্যায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে চীন সরকার। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো মেধাবীদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা রেখেছে। এগুলোর আওতায় টিউশন ফি মওকুফসহ আবাসন, চিকিৎসা সুবিধা এবং মাসিক ভাতারও সুবিধা রয়েছে। এশিয়ার দেশটিতে অধ্যয়নের এমন সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশি মেধাবীদের জন্যও অফুরন্ত সম্ভাবনার নামান্তর। চলুন চীনের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি স্কলারশিপের ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নিই।

২০২৫ সালে চীনের উচ্চশিক্ষায় শীর্ষ ১০টি স্কলারশিপ: এই বৃত্তি প্রকল্পটির পূর্ণরূপ Chinese Scholarship Council। এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা চীনের ২৮০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, মাস্টার্স এবং পিএইচডি অধ্যয়নের সুযোগ পান। চীন সরকার এই স্কলারশিপের অধীনে শিক্ষার্থীদের আবাসন ও মৌলিক স্বাস্থ্য বীমা প্রদান করে থাকে। প্রদেয় মাসিক ভাতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ চাইনিজ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি টাকায় ৫৮ হাজার ৬৪৫ টাকার (১ চাইনিজ ইউয়ান = ১৬ দশমিক ৭৬ বাংলাদেশি টাকা) সমতুল্য। ইতোমধ্যে যে শিক্ষার্থীরা চীনের কোনো বৃত্তি পেয়েছে তাদের জন্য CSC Scholarship প্রযোজ্য নয়।

এর আবেদনের জন্য নিবন্ধন করতে হবে সিএসসি পোর্টালে- (https://studyinchina.csc.edu.cn/?S8cMF5lUCwGD=1742626962725#/register)। অতঃপর যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক সেখানে পৃথকভাবে আবেদন জমা দিতে হবে।

তিয়াঞ্জিন গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ: এককভাবে নানকাই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় তিয়াঞ্জিন গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ। স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি লেভেলের জন্য উন্মুক্ত এই প্রকল্পে মাসিক সর্বোচ্চ ২ হাজার ইউয়ান (৩৩ হাজার ৫১১ টাকা) পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

আবেদনের শেষ সময় সাধারণত মে মাসের শেষের দিকে হয়ে থাকে। আবেদনকারীদের https://tju.at0086.cn/StuApplication/Login.aspx লিংকের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। নান্কাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চূড়ান্ত অনুমোদনই শিক্ষার্থীদের Tianjin Government Scholarship প্রাপ্তির প্রধান মাপকাঠি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে- https://sie.tju.edu.cn/en/jxj/tjszfjxj/ লিংকে।

সাংহাই গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ: চীনের প্রাদেশিক সরকার কর্তৃক পরিচালিত অনুদানগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এই সাংহাই গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ। পিএইচডি, মাস্টার্স এবং ন্যূনতম স্নাতকের ক্ষেত্রে প্রদানকৃত এই অনুদান তিনটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। টাইপ ‘এ’ (মাস্টার্স বা পিএইচডি), টাইপ ‘বি’ (স্নাতক), এবং টাইপ ‘সি’ (দীর্ঘমেয়াদি উচ্চতর অধ্যয়ন, যেমন চীনা ভাষা কোর্স)।

সাংহাই সরকার এগুলোর মধ্যে দুই ক্যাটাগরিতে স্কলারশিপ প্রদান করে। টাইপ ‘এ’-তে ফুল ফান্ডিং দেয় (ভর্তি ফি, আবাসন, চিকিৎসা বীমা এবং মাসিক ভাতা প্রদান) এবং টাইপ ‘বি’-তে আংশিক ফান্ডিং (শুধু টিউশন ফি ও স্বাস্থ্য বীমা)।

Shanghai Government Scholarship চীনা ভাষা কোর্সের মতো দীর্ঘমেয়াদি কোনো অধ্যয়নের জন্য প্রযোজ্য নয়। ডিগ্রি বিশেষে স্কলারশিপের মূল্যমান ২৫০০ থেকে ৩৫০০ ইউয়ান (৪১ হাজার ৮৮৯ থেকে ৫৮ হাজার ৬৪৫ টাকা) পর্যন্ত। আবেদনের সাধারণ সময় জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত এবং আবেদনের প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে- https://www.study-shanghai.cn/c.asp?action=AS_SS_Entry।

বেইজিং গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ: চীনের প্রাদেশিক সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রথম স্কলারশিপ কর্মসূচি হচ্ছে এটি। সরাসরি বেইজিং সরকার থেকে হওয়া এই অর্থায়নের একমাত্র সুবিধাভোগী হচ্ছে পিএইচডি, মাস্টার্স ও স্নাতক শিক্ষার্থীরা।

স্কলারশিপের আওতায় প্রদেয় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ইউয়ান (৬ লাখ ৭০ হাজার ২২৬ টাকা)। সাধারণত প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে জুনের মধ্যে আবেদন কার্যক্রম শেষ করা হয়।

Beijing Government Scholarship প্রদানকারী সুনির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা পাওয়া যাবে-
https://english.beijing.gov.cn/studyinginbeijing/choices/-লিংকে। এখান থেকে একটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের পর তৎসংলগ্ন ওয়েবসাইটেই পাওয়া যাবে আবেদনের প্রক্রিয়া।

হুবেই গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ: এই স্কলারশিপটিও স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। স্নাতক শিক্ষার্থীরা বছরে ১০ হাজার ইউয়ান (১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৫৬ টাকা) এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা ১৫ হাজার ইউয়ান (২ লাখ ৫১ হাজার ২৩৫ টাকা)। পিএইচডি শিক্ষার্থীরা পান ২০ হাজার ইউয়ান (৩ লাখ ৩৫ হাজার ১১৩ টাকা)। সাধারণ গবেষণা স্কলারশিপ হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদের ভিত্তিতে ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ইউয়ান (৮৩ হাজার ৭৭৮ থেকে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ১১৩ টাকা) প্রদান করা হয়ে থাকে।

স্কলারশিপের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয় প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে। আবেদনের জন্য Hubei Government Scholarship প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করার পর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে যেতে হবে।

সিআইএস স্কলারশিপ: শিক্ষা খাতে এই সরকারি প্রকল্পটির পূর্ণরূপ Confucius Institute Scholarship। এর আওতাভুক্ত প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে- চীনের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য পিএইচডি গবেষণা, গবেষণামূলক সফর, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি কোর্স। ১৫০টিরও বেশি চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আর্থিক সুবিধা গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।

CIS Scholarship-এ টিউশন ফি, আবাসন ব্যয়, চিকিৎসা বীমা এবং মাসিক ভাতা অন্তর্ভুক্ত। স্নাতক বা চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি কোর্স গ্রহণকারীরা মাসিক ২৫০০ ইউয়ান (৪১ হাজার ৮৮৯ টাকা) পেয়ে থাকেন। মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে মাসিক তিন হাজার ইউয়ান (৫০ হাজার ২৬৭ টাকা)।

সাধারণত মে এবং নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে দুটো পৃথক শিডিউলে আবেদন গ্রহণ করা হয়। অনলাইন আবেদনের সাইট: http://www.chinese.cn/page/#/pcpage/project_detail।

ইউনান প্রোভিনসিয়াল গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ: বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অধীনে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই স্কলারশিপ। এর নেপথ্যের প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সিএসসি। এ ব্যবস্থায় স্নাতক, মাস্টার্স, ডক্টরেট, প্রশিক্ষণ ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের জন্য আবেদন করা যায়।

ফুল ফান্ডিং-এর এই প্রকল্পে রয়েছে টিউশন ফি মওকুফ, বিনামূল্যে অন-ক্যাম্পাস আবাসন, মাসিক ভাতা এবং চিকিৎসা বীমা ও সুরক্ষা সুবিধা। সাধারণত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে আবেদন গ্রহণ কর্মসূচি। Yunnan Provincial Government Scholarship-এ আবেদনের প্ল্যাটফর্ম ইউনান নরমাল ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাই; http://ynnu.at0086.cn/student।

জিঞ্জিয়াং উইঘুর অটোনমাস রেজিন গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ : স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সরকার পরিচালিত এই বৃত্তি প্রকল্পে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডির পাশাপাশি চীনা ভাষা কোর্সও বিনা খরচে অধ্যয়ন করা যায়। পূর্ণ অর্থায়নের এই সুবিধায় জীবনযাত্রার ভাতা, আবাসন, চিকিৎসা বীমা ও টিউশন ফি অন্তর্ভুক্ত।

সাধারণত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ থাকে। স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির অধীনে নির্ধারিত কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো বিষয়ের জন্য এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই তথ্যসহ স্কলারশিপের যাবতীয় কার্যক্রমের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র স্কলারশিপ ম্যানেজমেন্ট ইন্ফরমেশন সিস্টেম।

এই সিস্টেম (http://studyinchina.csc.edu.cn/#/register) Xinjiang Uygur Autonomous Region Government Scholarship-এর আবেদনের জন্য নিবেদিত প্ল্যাটফর্ম। একইভাবে আবেদন জমা দিতে হয় জিঞ্জিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (http://xju.at0086.cn/StuApplication/Login.aspx)।

নাঞ্জিং গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ: এই সরকারি স্কলারশিপটি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক ও মাস্টার্স পর্যায়ে আংশিক ফান্ডিং দেয়। এর পাশাপাশি অন্য কোনো সংস্থার বৃত্তি একত্রে গ্রহণ করার নিয়ম নেই।

Nanjing Government Scholarship শুধু নাঞ্জিং ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে দেওয়া হয়। স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি অ্যাকাডেমিক বছরে সরকার থেকে আসে ১০ হাজার ইউয়ান (১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৫৬ টাকা)। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে আসে ৫ হাজার ইউয়ান (৮৩ হাজার ৭৭৮ টাকা)।

মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর ২০ হাজার ইউয়ান (৩ লাখ ৩৫ হাজার ১১৩ টাকা) করে পান। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শুধু জীবনযাত্রার ব্যয়টা মওকুফ করে।

আবেদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকে সাধারণত এপ্রিল মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত। প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা হয় https://nuist.17gz.org/member/login.do ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এ সময় প্রোগ্রাম হিসেবে নির্বাচন করতে হয় ‘চাইনিজ লোকাল গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ’।

ইয়াংঝৌ ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ: এই বৃত্তির ম্যাধমে ইয়াংজৌ ইউনিভার্সিটি তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া বৈশ্বিক ছাত্রছাত্রীদের পূর্ণ অর্থায়ন নিশ্চিত করে। অ্যাকাডেমিক ডিগ্রিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্নাতক, মাস্টার্স এবং পিএইচডি। এই প্রকল্পের মধ্যে সুবিধা হিসেবে রয়েছে টিউশন ফি মওকুফ, আবাসন ও মাসিক ভাতা। প্রার্থীদের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মাঝামাঝিতেই শেষ করতে হয় যাবতীয় আবেদন প্রক্রিয়া।

Yangzhou University Scholarship-এ স্নাতক পর্যায়ে শুধু আবাসনের ব্যয় ও টিউশন ফি মওকুফ করা হয়। মাস্টার্সে টিউশন ও আবাসন ব্যয় ছাড়াও রয়েছে প্রতি মাসে ১৫০০ ইউয়ান (২৫ হাজার ১৩৩ টাকা) করে জীবিকা ভাতা। এটি চলে ১০ মাস পর্যন্ত।

পিএইচডিতে টিউশন ও আবাসন ব্যয়ের পাশাপাশি গবেষকরা মাসে ২৫০০ ইউয়ান (৪১ হাজার ৮৮৯ টাকা) পর্যন্ত জীবিকা ভাতা পেয়ে থাকেন। এর স্থায়ীত্বকাল ১০ মাস পর্যন্ত। পূর্ণ আবেদন সম্পন্ন করার জন্য প্রার্থীদের যেতে হবে- https://yzu.at0086.cn/StuApplication/Login.aspx ওয়েবসাইটে।

সর্বশেষ এই ১০টি চায়না স্কলারশিপ চীনের শিক্ষা খাতে দেশটির সরকারের অবদানকে অর্থবহ করে তুলেছে। বৃত্তি প্রকল্পগুলোর প্রত্যেকটিই ব্যাচেলর থেকে শুরু করে পিএইচডি পর্যন্ত সব পর্যায়ের মেধাবীদের জন্য প্রযোজ্য।

তন্মধ্যে সরাসরি প্রধান সরকারি প্রকল্পভুক্ত হচ্ছে সিএসসি এবং সিআইএস স্কলারশিপ। তিয়াঞ্জিন, শাংহাই, বেইজিং, হুবেই, ইউনান প্রভিন্সিয়াল, জিঞ্জিয়াং উইঘুর অটোনোমাস রেজিন এবং নাঞ্জিং গভর্নমেন্ট স্কলারশিপগুলো পরিচালিত হয় প্রাদেশিক সরকারের অধীনে। তালিকার একমাত্র বেসরকারি উদ্যোগ হচ্ছে ইয়াংঝৌ ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ।

সর্বসাকল্যে, এই চাইনিজ স্কলারশিপগুলোর যেকোনোটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের পথে উৎকৃষ্ট বাহক।

দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি

১৬ ডিসেম্বর থেকে অনিবন্ধিত মোবাইল বন্ধে কঠোর সরকার

M Lutfar Rahman
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
   
১৬ ডিসেম্বর থেকে অনিবন্ধিত মোবাইল বন্ধে কঠোর সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি: সরকার ১৬ ডিসেম্বর থেকে মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন প্রক্রিয়া (এনইআইআর) চালু করতে যাচ্ছে। যা টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা জোরদার ও অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করবে। এই নতুন উদ্যোগের ফলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া কিংবা অনুমোদনবিহীন আমদানি করা মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

নতুন ব্যবস্থার আগাম ঘোষণা পাওয়ার পর অনিবন্ধিত মোবাইল ডিভাইসের দাম বাড়ার আশঙ্কায় বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। তবে সাধারণ মানুষ বিশেষত ছাত্র-যুবকরা অভিযোগ করছেন, সরকারি শুল্ক ও ভ্যাটের কারণে অফিসিয়াল ফোনের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় তারা পছন্দের ফোন কেনার সুযোগ পাচ্ছেন না। একটি ২০ হাজার টাকার ফোনে ৫৭ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়ে এর দাম ৫০ হাজার টাকারও বেশি হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা অনিবন্ধিত ফোন আমদানিতে ৫৭ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সভাপতি মো. আসলাম বলেন, সরকার যদি আলোচনায় না আসে, তাহলে ব্যবসায়ীরা রাজপথে নামার পথে বাধ্য হবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব জানান, দেশে ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল প্রতারণায় অবৈধ স্মার্টফোন ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বন্ধ করতে সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মোবাইল ফোন চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে অবৈধ ডিভাইসকেন্দ্রিক অপরাধ দমন, সুলভ দামে মোবাইল সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এই লক্ষ্য নিয়েই ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর কার্যকর করার সিদ্ধান্ত সরকার নেয়।

আইসিটি বিভাগ জানিয়েছে, এনইআইআর চালুর আগের দিন পর্যন্ত নেটওয়ার্কে থাকা সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পরবর্তীতে বিদেশ থেকে ফোন আনার ক্ষেত্রে অনলাইনে নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।

দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি

বিএনপি ধর্মের নামে ট্যাবলেট বিক্রি করতে চায় না: সালাহউদ্দিন আহমদ

M Lutfar Rahman
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
   
বিএনপি ধর্মের নামে ট্যাবলেট বিক্রি করতে চায় না: সালাহউদ্দিন আহমদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি: বিএনপি মানুষের ভোট চায়, ধর্মের নামে ট্যাবলেট বিক্রি করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা বিনা কষ্টে জান্নাতে নিয়ে যেতে চাচ্ছে, তারা বাসস্টেশন কোন জায়গায় তা জেনে নিয়েন। ইহকালে কীভাবে চলবে তার কোনো বক্তব্য তাদের কাছে নাই, শুধু তড়তড়িয়ে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চাইছে।

তিনি বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের কাছে ভোট চায়, জনগণের কাছে ধর্মের নামে ট্যাবলেট বিক্রি করতে চায় না। বিএনপি ভোট চায়, তার বিনিময়ে জনগণের যে চাওয়াগুলো আছে তা পূরণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেহেশতের কথা, জান্নাতের কথা বলছেন কোনো কোনো রাজনৈতিক দল। এমনটি তারা বলতেই পারে, ভোটের জন্য রাজনীতির জন্য কেউ কেউ এমনসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন। জামায়াতে ইসলাম মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তারা ধর্মের নামে ব্যবসা করছে।

দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি

আগামী বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি

M Lutfar Rahman
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
   
আগামী বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আগামী বুধবার (১০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনার সূত্রে জানা গেছে, আগামী বুধবার সিইসির ভাষণ রেকর্ড করতে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

একইদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসি ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সাক্ষাৎ করতে দেখা যায়।

আগামী বুধবার দুপুরে ১২টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাথে দেখা করবেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিননের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।

ইসি সূত্রে জানা যাচ্ছে, বুধবারই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

রেওয়াজ আছে, যেদিনই বক্তব্য রেকর্ড হয়, সেদিনই সাধারণত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। আর প্রতিবারই বিটিভি ও বেতারে জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ভোটের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

দ্য ওয়ার্ল্ড টাইমস বিডি